সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে নীলকন্ঠ চেতনার একুশ

অসীম চক্রবর্তী

অসীম চক্রবর্তী

সংস্কৃতি কর্মী এবং পিএইচডি গবেষক। কবিতা, ইতিহাস, রম্য সাহিত্য এবং রাজনীতির প্রতি বিশেষ অনুরাগী।

আমরা বিষয়টা শুরু করতে পারি সদ্যাগত একুশে ফেব্রুয়ারির দুইটি ঘটনা দিয়ে । একুশের সকালে পত্রিকায় পড়লাম পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরের শ্রী শ্রী শান্ত গৌড়ীয় মঠের প্রধান পুরোহিত ও অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়কে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। একই দিনে পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটিরাঙ্গা নামক স্থানের আরও একটি অপ্রকাশিত সংবাদ নজরে এলো ফেসবুকের মাধ্যমে । মাটিরাঙা এমন একটি জায়গা যেদিক দিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের সকল বাস যাতায়াত করে।সেখানেই সেখানকার সেটেলার বাঙালিরা বাস থেকে নামিয়ে নামিয়ে পাহাড়ি কুপিয়েছে। অসাধারণ এক উৎসব কর্মসূচী বলা যায়!

এবার বলছি দুই সপ্তাহ আগের একটি সংবাদ । সংবাদটির শিরোনাম ছিল “মায়ের শ্রাদ্ধ অনুষ্টানের দিনে সংখ্যালঘু পরিবারের উপর হামলা। “শ্রাদ্ধ হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় রীতি। যে কর্মটির মাধ্যমে কারো পিতা মাতা মারা গেলে সন্তান মাথা মুন্ডন করে ধর্মীয় নিয়ম রীতি মেনে পিতা অথবা মাতার আত্মার শান্তি কামনা করেন। সেই শ্রাদ্ধ অনুষ্টানের দিনে কুড়ি গ্রামের নাগেশ্বরীতে হামলা চালানো হয় একটি সংখ্যালঘু পরিবারের উপরে। এর চেয়ে জঘন্য কিছু হতে পারে বলে আমার জানানেই।
আজকাল সংবাদপত্র খুললে প্রায় প্রতিদিনই চোখে পড়ে দুর্বৃত্ত কতৃক সংখ্যালঘু নির্যাতন, দখল, ধর্ষণ ইত্যাদির সংবাদ। সাম্প্রতিক কালে প্রায় ধারাবাহিক ভাবেই এই কর্মকান্ড গুলো ঘটছে। নির্যাতনের খবর পত্রিকায় ছাপা হলেও ছাপা হয়না দুর্বৃত্তদের পরিচয় । হয়না কোন ফলোআপ সংবাদ । একমাত্র শ্রী শান্ত গৌড়ীয় মঠের প্রধান পুরোহিত ও অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায় হত্যার খুনি সন্দেহে তিনজন গ্রেফতার ছাড়া বাকি অজস্র ঘটনার নেই কোনো গ্রেফতার অথবা শাস্তির নজীর । সঙ্গত কারণেই তথাকথিত দুর্বৃত্তরা দিনে দিনে আরও সাহসী হয়ে উঠছে। এখন তারা আর রাতের আঁধারে নয় দিনে দুপুরে আক্রমন করছে স্বাধীনতার চার স্তম্ভের অন্যতম অসাম্প্রদায়িক চেতনার উপর। মায়ের শ্রাদ্ধানুস্টান থেকে শুরু করে গর্ভবতী হিন্দু নারী, এবং শিশুও বাদ যায়নি এদের কাছ থেকে। বাদ যাচ্ছেনা হিন্দু দেবদেবী অথবা জমিদারের নামানুসারে স্থান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্টানের নাম পরিবর্তনও। সংখ্যালঘু নির্যাতন যতটা প্রকাশ্যে ঘটছে ঠিক ততটাই নিরবে ঘটছে ইসলামিকরণ। বিএনপি’র কথা বাদই দিলাম। আশ্চর্যজনক ভাবে এই প্রতিক্রিয়াশিলকরন থেকে বাদ যাচ্ছেনা স্যাকুলার আওয়ামিলীগও।

এখন প্রশ্ন হলো কার স্বার্থসিদ্ধির জন্য হটাত করেই বেড়ে গেছে সংখ্যালঘু নির্যাতন ? কিসের এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রায় প্রতিদিন ঘটছে সাম্প্রদায়িক অপ্রীতিকর ঘটনা। এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে ফিরতে হবে কিছুটা অতীতে। বাহান্ন’র ভাষা আন্দোলন থেকে উনসত্তরের গণআন্দোলন, সত্তরের নির্বাচন এবং সর্বপরি একাত্তরের সশস্র মুক্তির সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান ভেঙ্গে জন্ম হয়ে স্যাকুলার বাংলাদেশের।১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতে আশ্রয় নেওয়া এক কোটি শরনার্তির মধ্যে ষাট ভাগের বেশি ছিলো হিন্দু। দেশ স্বাধীন হবার পরে অসাম্প্রদায়িক বাংলার আশায় জয় বাংলা বলে বেশিরভাগ হিন্দুই ফিরে আগে জন্ম মাটিতে। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন সইলো না। মাত্র চার বছরের মধ্যেই পচাত্তরের পনেরই অগাস্টে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নির্মম ভাবে হত্যার পরবর্তী সময় থেকে স্যাকুলারিজম, সম অধিকার, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মুক্তির চেতনা নিয়ে সদ্য জন্ম হওয়া একটি দেশে ধীরে ধীরে পা বাড়ায় প্রতিক্রিয়াশীলতার দিকে।সেনা শাসক জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেই পৃথিবীর অন্যতম অসাম্প্রদায়িক ১৯৭২’র সংবিধানকে ব্যবচ্ছেদ করে গলা টিপে হত্যা করলেন স্যাকুলার বাংলাদেশের স্বপ্ন।একইসাথে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে একাত্তরের ঘাতক রাজাকার, আলবদর, আল শামসদের রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতিতে আসারও সুযোগ দেন। এরপর থেকেই জামাত বাংলাদেশকে নানাভাবে প্রতিক্রিয়াশীল করনে তার কার্যক্রম পুরোদস্তুর শুরু করে। শুরু হলো উল্টো পথে হাঁটা।

কথায় আছে ষাট হাজার ইঁদুর মেরে বিড়াল যায় তীর্থ ভ্রমনে। মজার ব্যাপার হলো হেন কর্ম বাকি নাই যা হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ করেন নি। কিন্তু সব পাপের প্রায়্স্চিত্ত হিসাবে তিনি বাংলাদেশের সংবিধানকেই বেছে নিলেন। সংবিধানের কফিনে ঠুকা হলো হলো রাষ্ট্রধর্মের পেরেক। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৯১ সালের বাবরী মসজিদ ইস্যু থেকে শুরু করে ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়, হালের রামু, যশোরের মালোপাড়া সহ হাজারো ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিমান নেমে এসেছে ৮শতাংশে।

নাম পরিবর্তন একটি পুরানো সাম্প্রদায়িক কৌশল । পাকিস্তান আমলে বরিশালের অশ্বিনীকুমার টাউন হলের নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে রাখতে চেয়েছিলেন আইয়ুবখান। কিন্তু তত্কালীন প্রগতিশীল ছাত্ররা আইয়ুবখানের এই অপতত্পরতা রুখে দেয়। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের এহেন অবস্থায় কেউ যদি আইয়ুবখানের মতো নিজের নামে অথবা ধর্মীয় কোনো নেতার নামে হলটির নামকরণ করতে চায় তবে কেউ রুখতে পারবে অথবা প্রতিবাদ করবে বলে বোধ করিনা।

একইভাবে সিলেটের প্রায় সব পুরাতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই হিন্দু জমিদারদের সম্পত্তির উপরে। সঙ্গত কারণে নাম গুলো ও হিন্দুয়ানি। যেমন মুরারীচাঁদ কলেজ, মদন মোহন কলেজ, রাজা গিরিশ চন্দ্র স্কুল, রসময় মেমোরিয়েল স্কুল সহ সিলেটের অনেক থানার প্রধান স্কুল গুলো হিন্দু জমিদারদের নামে। কিন্তু অত্যাধুনিকতার অজুহাতে ধীরে ধীরে নাম গুলোর সংক্ষিপ্ত আকার করতে গিয়ে হিন্দু শিক্ষানুরাগী জমিদারদের নামগুলো দুরীকরন করা হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে আজকে সিলেটের বেশিরভাগ তরুণ প্রজন্ম জানেনা রাজা জিসি স্কুলের আসল নাম রাজা গিরিশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়। ধীরে ধীরে অফিসিয়াল প্যাড এবং রেকর্ডের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহারের প্রেক্ষিতে হয়ত আরও বছর ত্রিশেক পরের তরুনেরা জানবে না এমসি কলেজ, এম এম কলেজ ইত্যাদি’র আসল নাম।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সিলেটে শিবগঞ্জে’র ব্রাহ্মন পাড়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে আমরা চার বন্ধু থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে বেরোতে বেরোতে ব্রাহ্মন পাড়া হয়েগেলো বোরহানবাগ। একই ভাবে দেবপাড়া হয়ে গেলো ইসলামপুর। সিলেটের অদূরেই শ্রীরামপুর। নামের মধ্যেই কেমন হিন্দুয়ানি গন্ধ। কিন্তু নাম তো দ্রুত পাল্টানো যাবে না তাই খুব সুক্ষভাবে ধীরে ধীরে বিবর্তন করে পরিবর্তন করে শ্রীরামপুর কে বানানো হলো ছিরাম পুর। একই ভাবে শ্রীরামসি হয়ে গেলো ছিরামিষী।বর্তমানে খুবই চাতুর্যের সাথে ব্রাহ্মনবাড়িয়াকে বি বাড়িয়া বানানোর অপকর্মযজ্ঞ চলছে। এটা তো শুধুই মাত্র একটা ছোট উদাহরণ। একই ভাবে হয়ত সারা দেশের হাজারো গ্রামের নাম শুধুমাত্র হিন্দুয়ানি অজুহাতে বদলে দেব পুর থেকে ইসলামপুর হয়ে গেছে অথবা যাচ্ছে।

আগেই বলেছি নাম পরিবর্তনের মহড়া নিরবে হলেও সংখ্যালঘু নির্যাতন ততটাই সরবে হচ্ছে। যার হচ্ছেনা কোনো প্রতিবাদ, প্রতিকার অথবা বিচার।এখন এমন অবস্থায় এসে দাড়িয়েছে যে প্রায় প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও ঘটে চলেছে সাম্প্রদায়িক হামলা। নিজেদের ধর্ম এবং সম্মান রক্ষার জন্য নিরবে দেশত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা। গত দূর্গা পূজায় এক মাসে প্রায় উনত্রিশটা জায়গায় দূর্গা প্রতিমা ভাংচুর হয়েছে কিন্তু কোথাও কেউ গ্রেফতার হয়েছে বলে শুনিনি। এতো দূর পর্যন্ত যাওয়ার দরকার নেই। এই যেমন এবছরের জানুয়ারী মাসের কথাই যদি ধরি। ব্লগার ডানা বড়ুয়া’র ব্লগ থেকে জানলাম গত একমাসে সারা দেশে অন্ততঃ ছাব্বিশ থেকে সাতাসটি জায়গায় সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, নীলফামারী, দিনাজপুর, নোয়াখালী প্রভৃতি জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর সহিংসতা চালানো হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী এবং তার সহযোগী ইসলামী ছাত্রশিবির এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা স্পষ্ট। তবে এখন বিভিন্ন জায়গায় এর সঙ্গে অন্যান্য দলেরও সম্পৃক্ততার খবরও প্রকাশিত হচ্ছে, যা আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না।

অন্যদিকে প্রায় প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও মন্ত্রী, এমপি অথবা স্থানীয় নেতার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে শয়ে শয়ে মানুষ আওয়ামীলীগে যোগদান করছে। প্রশ্ন হলো এরা কি সবাই মুজিব আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আওয়ামীলীগে যোগ দিচ্ছে ? নাকি সুকৌশলে আওয়ামীলীগের মধ্যে প্রবেশ করে স্লিপার সেল সেজে সারাদেশে প্রতিক্রিয়াশীল উগ্র ধর্মীয়বাদের বিষবাস্প ছড়িয়ে দেওয়ার এজেন্ডা হাতে নিয়েছে ?প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ থাকা সত্বেও কিভাবে ক্রস চেক ছাড়া সারাদেশে এবং বিদেশে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন শাখায় প্রতিদিন যোগ দিচ্ছে নতুন মানুষ ।কার স্বার্থে এই গোলাপতোড়া গ্রহন করে যুদ্ধাপরাধী সংগঠনের মানুষকে আওয়ামীলীগে সাদর সম্ভাষণ জানানো হচ্ছে সেটাও ভাবার বিষয় । তার সাথে ওলামালীগ নামের একটি অহেতুক বিষফোঁড়া তো রয়েছেই।

মন্দির, প্রতিমা ইত্যাদি ভিনগ্রহের মানুষ এসে ভেঙ্গে দিয়ে যায় না। স্থানীয় মানুষেরাই করে। যারা হিন্দুদের আক্রমণ করেছে, পুড়িয়ে দিয়েছে তাদের বাড়িঘর, তাদের তো চিনতে কষ্ট হওয়ার কারণ নেই। তারা তো এ দেশেরই মানুষ। তাদের চিহ্নিত করে অপরাধের শাস্তি দেয়া কি একেবারেই অসম্ভব?

কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো বিগত দিনে সারা বাংলাদেশ জুড়ে ঘটে যাওয়া এই সব সাম্প্রদায়িক ঘটনায় গ্রেফতার হয়নি একজনও। আর গ্রেফতার হলেও সেটা খুবই নগণ্য। এই বিচারহীনতা আর উস্কে দিচ্ছে এসব ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকগোষ্ঠীকে। মুখে মুখে শুধু ধর্মীয় সহাবস্থান আর সম্প্রীতির ভুয়া বুলি তুললেও কোনো রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা নেই এই সমস্যা সমাধানের। হয়নি কোনো সুস্পষ্ট আইন। হয়নি কোনো বিচার বিভাগীয় তদন্ত।

গত বছর তিনেক ধরে ধর্মানুভুতি শব্দটি সরকার এবং বিরোধী দলের সবচেয়ে মুখরোচক শব্দ হলেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মানুভুতি নিয়ে কারো কোনো অনুভূতি নেই। কারণ প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী জানে যে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক শুধুই একটি বিশেষে দলের জন্য, সুতরাং এ নিয়ে তাদের মাথা ব্যথার কারণ নেই। অন্যদিকে প্রগতিশীল স্যেকুলার ধ্বজাধারীরা ভাবছে আমাদের ভোট না দিয়ে এরা যাবে কোথায়।

সুতরাং শুধু কথায় নয় ক্ষমতাসীনদের কাজের মাধ্যমে প্রমান করতে হবে তাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিফলন। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় বৈচিত্র রক্ষা করতে অনতিবিলম্বে সরকারকে নিম্ন বর্ণিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে ধর্মীয় নৃগোষ্ঠির অধিকারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।

১. ধর্মীয় নৃ গোষ্ঠির স্বার্থ রক্ষার জন্য আলাদা মন্ত্রনালয় গঠন এবং মন্ত্রী পরিষদ ও সংসদে ১৫% সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা ।
২. প্রশাসনিক উচ্চপদে আনুপাতিক হারে ধর্মীয় নৃগোষ্ঠির নিয়োগ দান,
৩. বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ১৯৯০-২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সন্ত্রাসী কর্মকা-ের হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার ব্যবস্থাকরণ,
৪. পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ ও সাজার ব্যবস্থা করুন,
৫. নীতিনির্ধারক গোষ্ঠীতে ধর্মীয় নৃগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্তিকরণ,
৬. সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীদের বিচারের জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন,
৭. পুলিশ বাহিনী, সেনাবাহিনী, বিজেপি ও গ্রামরক্ষী বাহিনীতে ১৫% সংখ্যালঘু হিন্দুর নিয়োগ দান,
৮. সন্ত্রাসীদের অর্থের উৎস ব্যাংক, বীমা, হাসপাতাল, শিক্ষালয় সরকারের বাজেয়াপ্তকরণ,
৯. সংখ্যালঘু এলাকায় সংখ্যালঘুর দ্বারা সশস্ত্ররক্ষী বাহিনী গঠন,
১০. ২০০১ সালে সংঘটিত সন্ত্রাসী কর্মকা-ের জন্য ড. সাহাবুদ্দীনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করা।

বাংলার হিন্দু, বাংলার মুসলিম, বাংলার বউদ্ধ,বাংলার খ্রিষ্টান আমরা সবাই বাঙালি । এই দেশে প্রতিটি মানুষের অধিকার সমান। এই দেশে প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এমন বিচারহীন সংখ্যালঘু হামলার মানে কি দাড়ায় ? রাষ্ট্র কি মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারছে না? গুটিকতক নরপশু আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী অসাম্প্রদায়িক অস্তিত্বকে নষ্ট করে দেবে, আর আমাদের সরকার ও রাষ্ট্র শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবে- এটাই কি আমাদের নিয়তি? মানুষ হয়ে আমরা মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারব না- এমন সমাজই কি আমাদের নিয়তি? এমন নিয়তিকে আমরা মেনে নিতে পারছি না।

আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ব্যাপারে ইন্ধন দান এবং হামলার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার ক্ষেত্রে যদি বিএনপি-জামাতকে দায়ী করা যায়, তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থতা, ক্ষমতায় থেকেও নির্যাতনের ঘটনাগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত না করার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগও কি দায় এড়াতে পারে? জাতির জনকের কন্যার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের উপর অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জনগোষ্ঠীর অনেক আস্থা । সেই আস্থাকে মূল্যায়ন করুন । আপনাদের নিরবতা নিস্ক্রিয়তা আমাদের আস্থা হারাতে বাধ্য করে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এই দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার অপমৃত্যু হবে । এবং আপনারা কি সাম্প্রদায়িক ঘেরটোপে বাংলাদেশকে আবদ্ধ করনের দায়ভার এড়াতে পারবেন ?

profilepic

সংস্কৃতি কর্মী এবং পিএইচডি গবেষক। কবিতা, ইতিহাস, রম্য সাহিত্য এবং রাজনীতির প্রতি বিশেষ অনুরাগী।


একটি প্রতিক্রিয়া হতে “সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে নীলকন্ঠ চেতনার একুশ”

  1. দেব সাগর

    এই সময়ের প্রেক্ষিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি লেখা। শুধু মাত্র আমরা দুঃখিত, আহা , উহু এসব কথা বাদ দিয়ে প্রগতিশীলরা যদি একটু সোচ্চার হতেন এই বিষয়গুলো নিয়ে, তবে হয়তো আমাদের চোখে কিছুটা প্রতিবাদ ধরা পরতো।
    অদুর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে হিন্দুও হয়তো জাদুঘরে গিয়ে দেখতে হবে!

    জবাব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।